ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মগর ইউনিয়নের কাঠিপাড়া গ্রামে দরপত্রের কার্যাদেশ
দেয়া একটি ব্রীজ সরিয়ে অন্যত্র নির্মান করায় জনমনে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি
হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে ঝালকাঠি এলজিইডির
নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের হয়েছে। এ কাজের উপর
নিষেধাজ্ঞা চেয়ে এলাকার ৮ জন ব্যাক্তি বাদী হয়ে জনস্বার্থে গত ২৯ মে মামলা
দায়ের করেন। ঝালকাঠি সিনিয়র সহকারি জজ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কেন
নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবেনা জানতে চেয়ে বিবাদীদের কারন দর্শানোর নোটিশ দেন। মামলার
আইনজীবী ও আরজি সূত্রে জানাযায়, নলছিটির ষাটপাকিয়া ফেরী ঘাট সড়ক থেকে মগর
ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৩৬৪০ মিটার সংযোগ সড়কে কাঠিপাড়া গ্রামে ব্রীজটি
নির্মানের পরিকল্পনা করা হয়। তাই পরাতন জরাজীর্ণ ব্রীজটি ভেঙ্গে একটি ২৪
মিটার লম্বা একটি গার্ডার ব্রীজ নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়। ঝালকাঠি এলজিইডি
নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সরকার ঠিকাদার এমটি বিলডার্সকে গত ২৯ মার্চ তারিখ
ঝাল/৫৯৮ স্বারকে এ কাজের কার্যাদেশ প্রদান করেন। এর নির্মান ব্যায় ধরা
হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৮৩ দিনের মধ্যে
কাজটি শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর ঠিকাদার গত ১৪ মে ২০১৭ তারিখ
নির্ধারিত স্থানে বোড়িং নির্মানসহ ব্রীজের কাজ শুরু করে।
কিন্তু অজ্ঞাত
কারনে পার্শবর্তী ভৈরবপাশা ইউনিয়নের পাটনি বাড়ি সংলগ্ন মোজাফ্ফর আলীর বাড়ির
কাছের খালের উপর নির্মানাধীন ব্রীজটির স্থান পরিবর্তন করা হয়। মামলার
আরজীতে উল্লেখ করা হয় এখানে পূর্বেই একটি ভাল ব্রীজ ছিল। সেটি ভেঙ্গে
ইতিমধ্যেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় বাদী পক্ষ মামলা
দায়ের করলে আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন। এব্যাপারে বাদীদের পক্ষে
মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন খান বলেন, এলাকাবাসির দাবির প্রেক্ষিতে আমরা
ব্রীজের কাজ শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখে ছিলাম। কিন্তু এলাকার দূর্ভোগের কথা
চিন্তা না করে ভৈরবপাশা ইউনিয়নের এক সাবেক সচিবের বাড়ির সামনে খালের উপর
এলজিইডি দ্বিতীয় পর্যায়ে ব্রীজটির কাজ শুরু করে। আমরা এ অন্যায় সিদ্ধান্তের
প্রতিবাদে আদালতের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি। বাদী পক্ষের আইনজীবী মাহবুব
আলম কবির বলেন, আমরা কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েছি। আদালত বিবাদীদের ৭ দিনের
কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। ঝালকাঠি এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম
সরকার এ বিষয়ে বলেন, যে স্থানে ব্রীজটি হবার কথা সেখানে নদী ভাঙ্গনের হুমকী
থাকায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া একই রাস্তায় ব্রীজটির সংযোগ স্থল।
কার্যাদেশের পর স্থান পরিবর্তনের সুযোগ আছে কিনা এর জবাবে নির্বাহী
প্রকৌশলী বলেন, সরকার চাইলে এটা করা যায়।
0 comments:
Post a Comment